জাতীয় সংসদ ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষিত প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনের বিস্তৃত মাঠ, সুদৃশ্য বাগানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিবিড়ভাবে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবন সংলগ্ন পুরো এলাকার সার্বিক পরিবেশগত অবস্থা, অবকাঠামোগত স্থায়িত্ব এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।সংসদ প্লাজার ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী, সৌন্দর্য ও নান্দনিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দেন, সংরক্ষিত এ এলাকার মাঠ ও বাগানের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন করে সবুজায়ন ও বিদ্যমান বৃক্ষরাজির সঠিক পরিচর্যার জন্য নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।তাছাড়া, সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের যেসব অংশে অবকাঠামোগত ত্রুটি বা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামত ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেন তিনি। জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা ও স্থাপত্য নান্দনিকতা ধরে রেখে প্লাজা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অনলাইন জরিপ
ইনবক্সের ভিড়ে নীল রঙের 'সিন' মার্ক কিংবা কয়েক সেকেন্ডে হারিয়ে যাওয়া ভয়েস মেসেজের যুগে মানুষ কি সত্যিই একে অপরের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছে? নাকি দ্রুত যোগাযোগের ছদ্মবেশে মানুষ দিন দিন আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে? এই যান্ত্রিক প্রশ্নটির উত্তর লুকানো রয়েছে নীল খামের পেটে পাঠানো সেই পুরোনো দিনের হাতে লেখা চিঠিতে।আজ ১ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস। প্রযুক্তির অতি-ব্যবহার থেকে ক্ষণিকের জন্য সরে এসে মানুষে মানুষে হৃদয়ের গভীর স্পন্দন বিনিময়ের উদ্দেশ্যেই দিনটি উদযাপিত হয়।দিবসটির পেছনের ইতিহাসটাও বেশ চমৎকার। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে অস্ট্রেলীয় লেখক ও আলোকচিত্রী রিচার্ড সিম্পকিন এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেন। তিনি নিজ দেশের বহু গুণী মানুষের কাছে হাতে লেখা চিঠি পাঠানো শুরু করেন। অবাক করার বিষয় হলো, আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততার মাঝেও তৎকালীন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা সিম্পকিনকে চিঠির উত্তর লিখেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই রিচার্ড বুঝতে পেরেছিলেন—হাতে লেখা অক্ষরের মায়া আর আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি ১ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস হিসেবে প্রবর্তন করেন।কিবোর্ডে টাইপ করা ‘আই লাভ ইউ’ কিংবা ‘কেমন আছ’ বার্তার চেয়ে হলুদ হয়ে যাওয়া কাগজে ঝাপসা হওয়া কালির টানে যে আবেগ থাকে, তা কোনো ইমোজি বা ডিজিটাল স্টিকার দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চিঠি মানেই ছিল শুধু কথা নয়—তাতে জড়িয়ে থাকত লেখকের হাতের লেখার ধরণ, কাঁপাকাঁপা আঙুলের স্পর্শ কিংবা অজান্তে ঝরে পড়া একফোঁটা চোখের জলের দাগ।চিঠি আমাদের শেখাত ধৈর্য ধারণ করতে। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টার শব্দের জন্য দিন গুনতে গুনতে মানসিক সম্পর্কের যে গভীরতা তৈরি হতো, আজকের নোটিফিকেশননির্ভর যুগে তা একপ্রকার বিলুপ্ত।তাই বিশ্ব চিঠি লেখা দিবসের এই বিশেষ দিনে, যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিয়ে কাগজ ও কলম তুলে নেওয়ার সময় এসেছে। বহুদিন না বলা কোনো অনুশোচনা, পুরনো অভিমান কিংবা বাবা-মা ও জীবনের বিশেষ মানুষটির উদ্দেশ্যে নিজ হাতে কয়েক লাইন লিখে ফেলুন। কারণ, টেক্সট মেসেজ একসময় সার্ভার থেকে মুছে যায়, কিন্তু হাতে লেখা চিঠি থেকে যায় পরম মমতায় স্মৃতির বাক্সে।
প্রতিদিনের ব্যস্ততায় রোজ বাজারে যাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই ছুটির দিনে একসংগে কয়েক দিনের সবজি কিনে ফ্রিজে রেখে দেওয়া এখন শহরের প্রায় প্রতিটি গৃহস্থালির সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে সময় বাঁচে এবং সবজি পচে যাওয়া থেকেও রক্ষা পায়। তবে বাজার থেকে এনেই রান্না করা তাজা সবজি এবং ফ্রিজে কয়েক দিন রেখে খাওয়া সবজির মধ্যে পুষ্টিগুণের কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য থেকে যায়। তাই সবজি কীভাবে এবং কত দিন সংরক্ষণ করছেন, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খেত থেকে সবজি তোলার পর থেকেই স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী তার পুষ্টিগুণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বিশেষ করে সাধারণ তাপমাত্রায় বাজার থেকে এনে দীর্ঘ দিন ফেলে রাখলে সবজিতে থাকা পুষ্টিকর উপাদানগুলো নষ্ট হয় দ্রুত। সে ক্ষেত্রে আনার পর যত দ্রুত সম্ভব তা রান্না করে খেলেই সর্বোচ্চ পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব।সবজি ফ্রিজে রাখলে পচন প্রক্রিয়া অনেকটাই ধীর হয়ে যায়। ফলে সবজি দেখতে তাজা থাকে এবং বেশ কিছু দিন ভালোও থাকে। তবে ফ্রিজে রাখলেই যে সবজির পুষ্টি উপাদান একদম অপরিবর্তিত থাকবে, তা কিন্তু নয়। দিন যত বাড়ে, ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রায় কিছু উপাদান কমতে থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’ এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর পরিমাণ দীর্ঘ সংরক্ষণের ফলে হ্রাস পেতে পারে। তবে তার মানে এই নয় যে, ২-৩ দিন ফ্রিজে রাখলেই সবজি বিষাক্ত বা সম্পূর্ণ পুষ্টিহীন হয়ে পড়ে।সবজির পুষ্টিমান যথাসম্ভব ধরে রাখতে কিছু সঠিক নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। বাজার থেকে আনার পরপরই সবজির পচা বা নষ্ট অংশ কেটে আলাদা করে ফেলা ভালো। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার করে পানি খুব ভালোভাবে ঝরিয়ে তবেই ফ্রিজে তোলা উচিত। তবে সবজি আগে থেকে কেটে দীর্ঘ দিন ফ্রিজে না রেখে, রান্নার ঠিক পূর্বমুহূর্তে কাটাই শ্রেয়।বিশেষ করে শাক বা পাতাজাতীয় সবজি খুব দ্রুত পুষ্টিগুণ হারায় এবং নষ্ট হয়ে যায়; তাই এগুলো ফ্রিজে না রেখে দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো। ব্যস্ত জীবনের প্রয়োজনে সবজি ফ্রিজে সংরক্ষণ করতেই হতে পারে, তবে তা যেন খুব বেশি দীর্ঘদিনের না হয়। শরীরকে পুরোপুরি সুস্থ রাখতে তাজা সবজি দ্রুত রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে উত্তম।
প্রতিদিনের রুটিন একই রকম আছে, কিন্তু কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর শরীর ভীষণ ক্লান্ত লাগছে? আগে যেখানে চটজলদি সব কাজ শেষ করে ফেলা যেত, আজকাল সেখানে যেন অলসতা এসে ভর করছে? শারীরিকভাবে ফিট থাকার পরও যদি আপনার সারা দিন এমন অহেতুক ক্লান্তি ও অলসতা কাজ করে, তবে বুঝতে হবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।সঠিক জীবনযাত্রা ও নিয়মতান্ত্রিক ছোট কিছু অভ্যাস আমাদের শরীরের ভেতরের শক্তির মাত্রা (Energy Level) প্রাকৃতিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার হারিয়ে যাওয়া সেই চাটুয্য ও উদ্যম ফিরিয়ে আনতে রুটিনে যে পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি, তা জেনে নিন:১. ঘুম থেকে উঠে গরম পানিসকালে ঘুম থেকে চোখ খুলেই এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস করুন। রাতে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পর শরীরে যে মৃদু পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তা দূর করতে এটি দারুণ কাজ করে। এ ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে সতেজ ও সক্রিয় করতেও পানির বিকল্প নেই।২. সকালের মিষ্টি রোদ গ্রহণঘুম ভাঙার ৩০ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সকালের রোদে কাটান। সকালের সূর্যের আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে শরীর ও মনের স্বাভাবিক 'বায়োলজিক্যাল ক্লক' বা ঘুম-জাগরণের চক্র ঠিক রাখে।৩. হালকা ব্যায়াম ও প্রাতঃরাশমাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটের ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ অথবা একটু দ্রুত হাঁটা আপনার পুরো শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেবে। এরপর সকালের ভারী নাশতা কোনো অবস্থাতেই বাদ দেওয়া যাবে না। নাশতায় ওটস, ডিম, লাল আটার রুটি কিংবা ফলমূলের মতো জটিল শর্করা (Complex Carbohydrate) ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।৪. খাবারের সময়সূচি ও পানিপানএকবারে অনেক বেশি পরিমাণে না খেয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরপর অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খান। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে কমে না এবং হঠাৎ ক্লান্তি আসে না। পাশাপাশি সারাদিন কাজের টেবিলে পানির বোতল রাখুন এবং অল্প অল্প করে চুমুক দিন। শরীরে মাত্র ২ শতাংশ পানির ঘাটতি হলেও মারাত্মক ক্লান্তি ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।৫. চা-কফিতে নিয়ন্ত্রণ ও কাজের বিরতিক্লান্তি কাটাতে ঘন ঘন অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া বন্ধ করুন। এগুলো তাৎক্ষণিক সাময়িক উদ্দীপনা দিলেও কিছুক্ষণ পর শরীরকে আরও বেশি অবসাদগ্রস্ত করে ফেলে। বিশেষ করে দুপুরের পর কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। এ ছাড়া একটানা বসে কাজ না করে প্রতি ৫০-৬০ মিনিট পর ৫ মিনিটের ছোট বিরতি নিন, একটু হেঁটে আসুন।৬. মানসিক চাপ ও মানসম্মত ঘুমদুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের ভেতরের শক্তি শুষে নেয়। ক্লান্তি দূর করতে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing) বা মেডিটেশন করুন। রাতের ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস বজায় রাখুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম অত্যন্ত জরুরি।৭. স্ক্রিনটাইম কমানো ও রাতের খাবারঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। ডিজিটাল ডিভাইসের 'ব্লু-লাইট' রাতের স্বাভাবিক ঘুমে বড় ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার শেষ করুন।বিশেষ পরামর্শ:জীবনযাত্রায় এসব ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরও যদি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনার তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা বজায় থাকে, তবে রক্তে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি বা থাইরয়েডসহ অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা শুধু বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার কিংবা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্যই বিখ্যাত নয়, এ জেলার রয়েছে শত বছরের প্রাচীন খাদ্যের ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যের তালিকায় অন্যতম শীর্ষে রয়েছে কুষ্টিয়ার কুলফি মালাই। সর্দি-কাশির ভয় ভুলে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সীদের কাছেই এই কুলফি মালাই এখন এক পরম তৃপ্তির নাম।অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের নদীয়া জেলার অংশ ছিল এই কুষ্টিয়া। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সময়কার নদীবন্দর থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের রেল যোগাযোগ—সবই এ জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী। দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি এবং একসময়ের নামকরা বস্ত্রকল মোহিনী মিল আজও কুষ্টিয়ার সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। পদ্মা ও গড়াই নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই জনপদ এখন সারা দেশে পরিচিত তার অনন্য স্বাদের খাবারের জন্য।সম্প্রতি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এক বাস্তব সত্য। দেশের অন্য যেকোনো স্থানে কুষ্টিয়ার কুলফি বলে যা বিক্রি হয়, তার চেয়ে এখানকার আসল কুলফির স্বাদ আকাশ-পাতাল ভিন্ন। বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের মীর মোশাররফ হোসেন সেতুর (গড়াই সেতু) পূর্ব পাশে বসা দোকানগুলো এখন কুলফিপ্রেমীদের প্রধান আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।ছবি : দৈনিক নতুন আলোস্থানীয় বিক্রেতারা জানান, তাঁরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে খাঁটি দুধ, কিসমিস, এলাচ ও কিছু বিশেষ উপাদানের মিশ্রণে বাড়িতেই এই মালাই তৈরি করেন। প্রতি পিস কুলফি এখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। স্বাদ ও মানের ব্যাপারে বিক্রেতারা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তাঁদের চ্যালেঞ্জ— যদি খেয়ে মজা না লাগে, তবে দাম দিতে হবে না।খুলনা থেকে অফিসের কাজে কুষ্টিয়া আসা এক দর্শনার্থী জানান, অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকার পরেও কুষ্টিয়ার কুলফি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল। তাই এখানে এসে একসঙ্গে চারটি কুলফি খেয়েছি। এখানকার মালাইয়ের যে ঘন ও শীতল স্বাদ, তা মুহূর্তেই সব ক্লান্তি দূর করে মন সতেজ করে দেয়। শুধু তাই নয়, স্বাদ মুখে লেগে থাকায় অনেক পর্যটকই ফেরার সময় তাঁদের পরিবারের জন্য বাসায় পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন এই বিখ্যাত খাবার।কুষ্টিয়ার তিলের খাজা আর কুলফি মালাই এখন শুধু কোনো সাধারণ খাবার নয়, এটি এ জেলার গর্ব ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যাঁরা ঐতিহ্যবাহী এবং নির্ভেজাল খাবারের আসল স্বাদ নিতে চান, তাঁদের জন্য কুষ্টিয়ার এই কুলফি মালাই হতে পারে সেরা অভিজ্ঞতা।
টাপুর-টুপুর বৃষ্টির শব্দ, ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর শীতল বাতাস— বৃষ্টি অনেকের কাছেই প্রশান্তি, ভালোবাসা আর রোমান্টিক অনুভূতির প্রতীক। কিন্তু এই একই বৃষ্টি সবার মনে আনন্দের সুর তোলে না। অনেকের কাছেই মেঘলা আকাশ মানে অকারণ বিষণ্নতা, ক্লান্তি, একাকিত্ব কিংবা মন খারাপের এক অদ্ভুত অনুভূতি।আপনিও যদি বৃষ্টির দিনে অস্বাভাবিকভাবে মনমরা অনুভব করেন, তবে জেনে রাখুন— এটি কিন্তু মোটেও আপনার একার সমস্যা বা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মেঘলা আকাশ বা দীর্ঘ সময় সূর্যালোকের অভাবে মানুষের মধ্যে হতাশা ও বিষণ্নতার লক্ষণ বেশি প্রকাশ পায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় রেইনি ডে ব্লুজ(Rainy Day Blues)।তবে এর অর্থ এই নয় যে বৃষ্টি নিজেই বিষণ্নতার মূল কারণ। বরং বৃষ্টির আবহাওয়া আমাদের মানসিক অবস্থার ওপর এমন কিছু প্রভাব ফেলে, যা আগে থেকে থাকা হালকা বিষণ্নতা বা সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার(Seasonal Affective Disorder—SAD)-এর লক্ষণগুলোকে আরও তীব্র করে তোলে।মনোবিদদের মতে, বৃষ্টির দিনে আমাদের মন খারাপ হওয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ :ঋতুভিত্তিক বিষণ্নতা বা স্যাড (SAD) : সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার হলো এমন এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে— বিশেষ করে শীতকাল বা দীর্ঘ সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় বেশি দেখা যায়। এ সময় অনেকেই অকারণে ক্লান্ত ও অনুৎসাহী বোধ করেন।সূর্যালোক ও হরমোনের খেলা : সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরোটোনিন নামের একটি হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা আমাদের মেজাজ ফুরফুরে রাখে। মেঘলা দিনে সূর্যের আলো না পাওয়ায় শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায়। একই সাথে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন-এর উৎপাদনেও তারতম্য ঘটে, যা ঘুমের রুটিন নষ্ট করে মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে দেয়।জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্বেগ : অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা বা জলাবদ্ধতা মানুষের মনে এক ধরনের অবচেতন উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অঞ্চলে আবহাওয়া দ্রুত চরম রূপ নেয়, সেখানে মানুষের মধ্যে হতাশার হার তুলনামূলক বেশি।ঘরবন্দি জীবনের একঘেয়েমি : বৃষ্টির কারণে বাইরে হাঁটাচলা, আড্ডা বা খেলাধুলার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় চার দেয়ালের মাঝে বন্দি থাকলে অলসতা ও একাকিত্ব জেঁকে বসে, যা মন খারাপের অনুভূতিকে দ্বিগুণ করে দেয়।মন খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক হলেও কিছু ছোট ও কার্যকর অভ্যাস আপনাকে এই মেঘলা দিনেও চনমনে রাখতে সাহায্য করতে পারে :লাইট থেরাপির সাহায্য নিন : সিজনাল ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে লাইট থেরাপি দারুণ কাজ করে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের উজ্জ্বল কৃত্রিম আলোতে কিছুটা সময় কাটালে শরীরে সেরোটোনিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং দ্রুত মেজাজ উন্নত হয়। ঘরেই শরীরচর্চা করুন : বাইরে বৃষ্টি বলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন না। ঘরের মধ্যেই হালকা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ, ইয়োগা, নাচ কিংবা ঘরের টুকটাক কাজের মাধ্যমে শরীরকে সচল রাখুন। নিয়মিত শরীরচর্চা মস্তিষ্কে এনডরফিন হরমোন নিঃসরণ করে মানসিক চাপ কমায়। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম : প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব জরুরি। মনে রাখবেন, ঘুম কম হওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি বৃষ্টির দিনে অতিরিক্ত ঘুমানোও কিন্তু মন খারাপের অন্যতম কারণ হতে পারে। প্রিয় মানুষদের সাথে গল্প করুন : বৃষ্টির দিনে নিজেকে একা গুটিয়ে না রেখে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। একটি ফোন কল, ভিডিও চ্যাট, কিংবা সবাই মিলে একসাথে বসে গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে ছোট্ট আড্ডাও আপনার মনের সব মেঘ দূর করে দিতে পারে।সাময়িক মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক, তবে এই বিষণ্নতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে শুরু করে, তবে দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সিলরের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি দীর্ঘদিন ধরে কোনো কিছুতেই মন না বসে এবং তীব্র একাকিত্ব বোধ হয়, তবে আবহাওয়াজনিত বিষণ্নতা চিকিৎসায় অভিজ্ঞ একজন থেরাপিস্টের গাইডলাইন নেওয়া জরুরি।বৃষ্টি প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। কারও কাছে এটি আনন্দের জলছবি, আবার কারও কাছে অকারণ মন খারাপের মেঘ। তাই বৃষ্টির দিনে মন খারাপ লাগলে নিজেকে দোষারোপ করবেন না। নিজের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিন, পর্যাপ্ত আলো ও প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে থাকুন। একটু সচেতনতা আর নিজের যত্নেই এই সাময়িক রেইনি ডে ব্লুজ কেটে গিয়ে আপনার মনে আবার ফিরে আসবে রোদেলা আলো।
আধুনিক নগরায়ণ আর প্রযুক্তির জোয়ারে আমরা প্রতিনিয়ত কত কিছুই না হারাচ্ছি। তবে কিছু কিছু হারিয়ে যাওয়া শুধু একটি বস্তু বা স্থাপনার বিদায় নয়, বরং তা একটি পুরো প্রজন্মের চেনা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সামাজিক মূল্যবোধের অপমৃত্যু। তেমনি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সামাজিক জীবনের একসময়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল কাচারি ঘর। সম্ভ্রান্ত ও সচ্ছল পরিবারগুলোর বাড়ির আঙিনায় সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই ঘরটি কেবল কাঠে-বাঁশে ঘেরা কোনো স্থাপনা ছিল না; এটি ছিল শিক্ষা, আড্ডা, সামাজিক মেলবন্ধন ও মানবিক সম্পর্কের এক জীবন্ত প্রাণকেন্দ্র।আজকের শহুরে জীবনের ড্রয়িংরুম যেমন কেবলই অতিথি আপ্যায়নের এক যান্ত্রিক বা কৃত্রিম জায়গা, অতীতের গ্রামের কাচারি ঘর ছিল তার চেয়ে বহুগুণ বিস্তৃত। এটি ছিল মূলত গ্রামীণ সমাজের নৈতিক শিক্ষার এক অনানুষ্ঠানিক অবারিত পাঠশালা।এই কাচারি ঘরগুলোতেই একসময় আশ্রয় হতো দূর-দূরান্ত থেকে আসা লজিং শিক্ষক কিংবা গৃহশিক্ষকদের। ভোরের আজানের সঙ্গে সঙ্গেই মুখরিত হয়ে উঠত এই ঘর। নামাজ শেষে শুরু হতো শিশুদের কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ শিক্ষা, শিষ্টাচার ও নৈতিকতার পাঠদান। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষকেরা এখানে শিশুদের জীবনবোধের পাঠ দিতেন। আর এই শিক্ষার বিনিময়ে শিক্ষকেরা পেতেন নিখাদ পারিবারিক আন্তরিকতা ও সামাজিক বন্ধন। একসময় গ্রামের মানুষ চাল বা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে লজিং শিক্ষকদের পরম শ্রদ্ধায় পুরস্কৃত করতেন, যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আর্থিক সম্মানী রূপ নেয়।কাচারি ঘরকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ সমাজে চমৎকার একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠত। সাধারণত এই ঘরের আশপাশেই থাকত একটি ছোট সামাজিক পরিসর— যার মধ্যে একটি ছোট মসজিদ, পুকুরঘাট, উন্মুক্ত খেলার মাঠ ও সুপেয় পানির উৎস। বিকালের আড্ডা থেকে শুরু করে গ্রামের বিচার-সালিশ, কিংবা মেহমানদের আবাসন— সবকিছুর মুশকিল আসান ছিল এই কাচারি ঘর।সময়ের নিষ্ঠুর পরিবর্তনে, আধুনিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর যান্ত্রিক জীবনের চাপে সেই কাচারি ঘর আজ গ্রামবাংলা থেকে প্রায় বিলুপ্ত। আজকের নতুন প্রজন্মের অনেক শিশু-কিশোর হয়তো এই ঐতিহ্যের নামটুকুও জানে না।আজকের আধুনিক যুগে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক এগিয়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে; কিন্তু ঠিক উল্টো পিঠে আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নৈতিকতা ও মানবিকতার ভিত। চারপাশের অস্থিরতা দেখে আজ বারবার প্রশ্ন উঠছে— আমরা কি তবে আধুনিক হতে গিয়ে নিজেদের আসল শিকড়টাই হারিয়ে ফেলছি?আজকের এই নৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সম্ভবত নতুনভাবে কাচারি ঘরের ধারণাকে সমাজ ও রাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে। গ্রাম কিংবা শহরের প্রতিটি পাড়ায় এমন ছোট ছোট অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র যদি আবার গড়ে তোলা যায়, যেখানে শিশুদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নিখাদ নৈতিক আর মানবিক শিক্ষা দেওয়া হবে, তবেই হয়তো নতুন প্রজন্মকে আধুনিকতার পাশাপাশি তাদের আসল শিকড়ের সঙ্গে আবারও যুক্ত করা সম্ভব হবে।